Home Blog

জুবিনের মৃত্যুদিনে নতুন গান ‘ফেলে আসা’, সঙ্গে রত্না সাহা


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ছিল ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুদিন। গত বছরের এই দিনে লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর আরও অনেক দেশের শ্রোতারাই বুঁদ হয়ে থাকেন তার গানে।

শিল্পীর প্রয়াণ (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবসে প্রকাশ হলো তার নতুন গান ‘ফেলে আসা’। এতে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের গায়িকা রত্না সাহা।

গানটির কথা লিখেছেন কলকাতার জনপ্রিয় গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সুর করেছেন আসামের সংগীত পরিচালক রিজওয়ান ইয়াসিন এবং সংগীতায়োজনে শুভায়ু ভট্টাচার্য। এটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন পাভেল মাহমুদ জয়। এতে অভিনয় করেছেন তারেক জামান তানজ ও ফাইজা ইসলাম। শিশুশিল্পী হিসেবে রয়েছে রুদ্রনীল দত্ত, তূর্যনিনাদ দত্ত ও শ্রেষ্ঠা তুলসিয়ান।

প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে জুবিন গার্গের সঙ্গে গানটি গাওয়ার সুযোগ পান রত্না সাহা। জুবিনের গান শুনে বেড়ে ওঠা রত্নার কাছে তার সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ ছিল দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন একসময় পূরণও হয়। তবে গানটি প্রকাশের আগেই পৃথিবী ছেড়ে যান নন্দিত এই শিল্পী।

গানটি নিয়ে রত্না সাহা বলেন, ‘আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে এত বড় একজন শিল্পীর সঙ্গে গান গাইতে পেরেছি। আমি জুবিন গার্গ দাদার গান শুনে বড় হয়েছি। স্বপ্ন ছিল তার সঙ্গে একটি গান গাইবো। সেটা করতে পেরে অনেক খুশি। তবে তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো এই সময় তার অনুভূতি জানতে পারতাম। সেটা আমার জন্য একটা বড় আক্ষেপ। তারপরও তিনি আমার জন্য যে উপহার রেখে গেছেন, এটাই আমার সংগীতজীবনের অনেক বড় পাওয়া।

ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া রত্না সাহা ২০২৪ সালে ‘এ কেমন মায়া’ গান দিয়ে গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একক ও দ্বৈত—দুই ধরনের গানেই নিজের পথ তৈরি করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত তার গাওয়া ৫৬টি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। গেয়েছেন আকাশ সেন, কাজী শুভ, মাহতিম শাকিবের মতো শিল্পীদের সঙ্গেও।

পরীক্ষার ফি কমালো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি পরীক্ষার পূর্বনির্ধারিত ফি কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালের এলএলবি শেষ পর্ব এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এলএলবি প্রথম পর্ব পরীক্ষার সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে তাত্ত্বিক পত্রপ্রতি ফি কমানোর পাশাপাশি ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার সময়সূচিও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর থেকে এলএলবি পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত পৃথক দুটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের এলএলবি শেষ পর্ব পরীক্ষায় তাত্ত্বিক পত্রপ্রতি ফি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে।

মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের প্রতিপত্র ফি ২ হাজার টাকা, মুটকোর্ট ট্রায়াল ও মৌখিক পরীক্ষার ফি ৯০০ টাকা এবং এর কেন্দ্র ফি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ফি ৮০০ টাকা এবং ট্রান্সক্রিপ্ট ও সাময়িক সনদপত্রের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের অকৃতকার্য বা অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অন্তর্ভুক্তি ফি ৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এলএলবি প্রথম পর্ব পরীক্ষায় পত্রপ্রতি পরীক্ষার ফি ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের প্রতিপত্র ফি ২ হাজার টাকা, ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ৮০০ টাকা। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের অকৃতকার্য বা অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অন্তর্ভুক্তি ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি ও নিশ্চয়ন করবে। এরপর ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ফি জমা দিতে হবে। ‘সোনালী সেবা’ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যাবে না।

পরীক্ষার আবেদন ফরম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমএস, এনইউ, এডিইউ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইনে তথ্য পূরণের পর প্রিন্ট কপি যাচাই করে কলেজের অধ্যক্ষের সই নিতে হবে। আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কলেজে সংরক্ষণ করতে হবে।

ফরম পূরণের সময় বিষয় কোডসহ সব তথ্য যাচাই করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি ও প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ যথাসময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। 

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারই এসআরবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

থানা থেকে লুট হওয়া ১ হাজার ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এসব অস্ত্র কোথায়, কার হাতে; তার পুরো হিসাব মেলেনি। বারবার পুরস্কার ঘোষণা এবং উদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগের পরও অস্ত্রগুলো হাতছাড়া হয়ে থাকায় এগুলো উদ্ধার এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক র‌্যাব ও বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি)। অস্ত্রের সন্ধানদাতাদের জন্য পুরস্কার এবং আইনি ঝামেলা থাকবে না, এমন আশ্বাস দিয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তবে এসআরবির এমন প্রচারণায় শেষ পর্যন্ত কতটা অস্ত্র উদ্ধার হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে এসআরবির কর্মকর্তারা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এসব অস্ত্র উদ্ধারে তারা কাজ করছেন।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এসব অস্ত্র উদ্ধার এখন অনেক কঠিন কাজ। নতুন করে এসআরবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই যে উদ্ধার হয়ে যাবে, এমন নয়। তারা তো এর আগেও চেষ্টা করেছে। তারা তো আর বসে থাকেনি। এখন তাদের সমন্বয় করা হলেও বিষয়টি সহজ হবে না। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এখন আরও কঠিন হয়ে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় থানা-ফাঁড়ির অস্ত্র ও গুলির বেশিরভাগই লুট করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও দলীয় ক্যাডাররা। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেসব অস্ত্র ও গুলি লুট করে, তা কম দামে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের কাছে বিক্রি করে। এসব অস্ত্র আবার হাতবদল হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে।

শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার সেই অস্ত্র পুরোনো সহযোগীদের পাশাপাশি নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের হাতেও তুলে দিয়েছে। যাতে নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের পুলিশ ও এসআরবি চিনতে না পারে। আর তা দিয়ে একের পর এক খুনোখুনি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

এ ছাড়া লুণ্ঠিত অস্ত্র ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী চক্র, কিশোর গ্যাং, জলদস্যু ও বনদস্যুদের হাতেও গেছে। বেহাত অস্ত্র দিয়েই তারা নানা অপরাধ করছে। এমনকি পুলিশের ওপর হামলাতেও এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। সামনে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে বেহাত অস্ত্রের ব্যবহার নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।

পুলিশ সদরদফতরের পরিসংখ্যান

পুলিশ সদরদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্র।

একই সময়ে লুট হওয়া ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৫টি। এখনও উদ্ধার হয়নি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি।

লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে যা হচ্ছে

চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে গলাকাটা মোবারককে গত ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তারের অভিযানে পুলিশের দিকে যে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়, সেটি পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক জানিয়েছেন, অন্য এক সন্ত্রাসীর মাধ্যমে তিনি অস্ত্রটি পেয়েছিলেন। অর্থাৎ থানা থেকে লুট হওয়ার পর অস্ত্রটি একাধিক হাত ঘুরে অপরাধী নেটওয়ার্কে পৌঁছেছিল।

এর আগেও পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি র‌্যাবের এক অভিযানে মিরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা একটি বিদেশি পিস্তলের বিষয়ে তদন্তে জানা যায়, সেটি ৫ আগস্টের পর একটি থানা থেকে লুট হয়েছিল। পরে কয়েক দফা হাতবদল হয়ে অস্ত্রটি মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অর্থাৎ লুটের অস্ত্রের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর তা তাদের জন্য সাধারণ অবৈধ অস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে। কারণ এগুলোর বেশিরভাগই ছিল পুলিশের ব্যবহৃত কার্যকর ও প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র।

গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শক মাদক সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৮ জুন সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি ও ৫৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। গ্রেফতারের পর অটো সজল পুলিশকে বলেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো তারা আগস্টে ওয়ারী থানা থেকে লুট করেছিল।

এদিকে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, গত ৩০ আগস্ট গেন্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গোলাগুলিতে এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার তদন্তে নেমে র‌্যাব অটো সজল গ্রুপের ৫ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দখল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ স্টেশন থেকে লুণ্ঠিত হওয়া অস্ত্রের অংশ বলে শনাক্ত করেছে র‌্যাব।

গত আগস্টে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জেলের জালে পুলিশের লুট হওয়া একটি শটগান উঠে আসে। পরে পুলিশ অস্ত্রটি উদ্ধার করে রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে আড়াইহাজার বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি তাক থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা থেকে এই অস্ত্র লুট হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লুট হওয়া অস্ত্রের কেনাবেচার তথ্যও পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে। চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি পিস্তলসহ মিনহাজ উদ্দিন রাহিম (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানায় ঢুকে একটি পিস্তল লুট করেন মিনহাজ। পরে আমির হোসেন নামে একজনের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যে গত ১৩ এপ্রিল মিনহাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবকে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব

থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বর্তমান এসআরবিকে (সাবেক র‌্যাব) দায়িত্ব দেওয়া হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর। সংস্থাটির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়, লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযানের সমন্বয়কারী হিসেবে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে তাকে পুরস্কার দেওয়ারও ঘোষণা দেয় র‌্যাব।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধানদাতাদের পুরস্কারের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

পুরস্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী। হেভি ওয়েপনস বা ভারী অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারী তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগান জাতীয় অস্ত্রের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ারগ্যাস সেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, তথ্য সরবরাহকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তার কথায়, পরিচয় গোপন না রাখলে সাধারণ মানুষ তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে না।

অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহায়তা কামনায় এসআরবি

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ সহায়তা চান।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির অভিযানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে এখন সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সেগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ধরনের অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে যাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, কেউ কোনো ঘটনার সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তার হয়তো কোনো দুরভিসন্ধি নেই। পরিস্থিতির কারণে বা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার পর এখন তিনি কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। আবার আইনগত প্রক্রিয়ার কথা চিন্তা করে কাউকে জানাতেও ভয় পাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই জায়গায় দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন বা গুলি আছে; এতটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। যিনি তথ্য দেবেন, তাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কুদরাত ই খুদা বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি এখন সরাসরি আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারণ ইতোমধ্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে; লুটের কিছু অস্ত্র অপরাধীদের হাতে গিয়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের ওপর গুলি চালানোর মতো ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে নিখোঁজ প্রতিটি অস্ত্র সম্ভাব্য একটি অপরাধের উপকরণ।

তিনি বলেন, সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ৫ আগস্টের লুটের ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। বরং সময় যত যাচ্ছে, অস্ত্রগুলো যত বেশি হাতবদল হচ্ছে, সেগুলোর উৎস শনাক্ত এবং কোথায় ব্যবহার হয়েছে তার হিসাব বের করা তত কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় নির্বাচন। লুটের অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে থাকলে তা স্থানীয় নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার, ভোটকেন্দ্রে দখলসহ আরও নানা অপরাধে ব্যবহার হতে পারে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটা বড় অংশই উদ্ধার হয়েছে। এখনও যেসব অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারও কাছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কোনও খবর থাকলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।

দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’ দিয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার পর নতুন জীবনের পথে ফিরেছেন এক রোগী। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন স্বেচ্ছাদাতার কিডনি নিয়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে তার শরীরে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা ‘আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত’ স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রোগী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত চিকিৎসক, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার পর নতুন জীবনের পথে ফিরেছেন এক রোগী। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন স্বেচ্ছাদাতার কিডনি নিয়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে তার শরীরে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা ‘আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত’ স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রোগী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত চিকিৎসক, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

তিনি বলেন, নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

উপাচার্য জানান, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো কাজ করছে। সম্ভাব্য ডোনারের আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পরই প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ডোনারের মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করে। রোগীর সঙ্গে ডোনারের সম্পর্ক, দানের স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ কি না, তাও যাচাই করা হয়।

তবে কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই বলে কঠোরভাবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।”

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমও চলমান রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিএমইউ আরও সক্ষমতা অর্জন করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনার কিডনি প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশেই এ ধরনের জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সফলতা শুধু একটি রোগীর চিকিৎসায় সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত একজন রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বিএমইউতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ৩১ আগস্ট তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা ওই রোগীকে কিডনি দান করেন।

সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার এই মুহূর্তটি আবেগঘন করে তোলে পুরো আয়োজন। রোগী ও তাঁর স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহম্মদ, গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, ডোনার টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্যরা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিএমইউর এই সফলতা দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনসম্মত, নিরাপদ ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে অঙ্গদানের সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংকট, জাতিসংঘে বসছেন বিশ্বনেতারা

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে এবারের অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নানা চাপের মুখে। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থায়ন কমানো ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে জাতিসংঘও চাপে রয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না। ২০২১ সালে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর এবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন। এতে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৮০ বছর বয়সী এই সংস্থার বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষে দিকে শেষ হচ্ছে। তবে তাকে প্রতিস্থাপনের দৌড়ে এখনো কোনও স্পষ্ট অগ্রগামী প্রার্থী নেই।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে পারে। আরব নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান বলেন, জাতিসংঘ এখন আর ‘মুক্তপতনে’ নেই, তবে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আটকে আছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার হারানো ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে নিয়মিত বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে ওয়াশিংটন। তবে সংস্থাটির কাছে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে এবং ব্যয় কমানো ও সংস্কারের দাবি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

এবারের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এআই খাতের কয়েকজন নেতা প্রযুক্তিটির উন্নয়ন সমন্বিতভাবে ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এআই খুব শিগগির নিজেই নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা অর্জন করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

গুতেরেসও এআই নিয়ে বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরির পক্ষে। তার মতে, প্রযুক্তিটির উন্নয়নে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর উচিত অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে গুতেরেসের সতর্কতার সঙ্গে একমত নন ট্রাম্প; তিনি এ ধরনের আশঙ্কাকে ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অপ্রতীমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার ও আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।  

গ্রেফতাররা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), এক কিশোর (১৫) ও কামরুল হাসান। এ ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে পরিকল্পনা করে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যায় সে।

পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদ জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিনের দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হলে তুহিন মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিন জনকে অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুর্কি লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন মোহাম্মদ সালাহ

মোহাম্মদ সালাহের জাদুকরী পারফরম্যান্সে সুপার লিগের শীর্ষে থাকা গালাতাসারাইকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ট্রাবজোন্সপোর। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। প্রাক্তন লিভারপুল সতীর্থ সালাহের এই রাজকীয় পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ফাবিনিয়ো তাকে বিশ্বমানের ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ঘরের মাঠ পাপারা পার্কে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন ৩৪ বছর বয়সী এই মিশরীয় তারকা। এরপর নোয়াহ স্যাভিওলোকে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করানোর পর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। ম্যাচের ৮০ মিনিটে চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সালাহ, যা ট্রাবজোন্সপোরের নতুন কোচ থমাস রাইসের জন্য এক দারুণ উপহার।

ম্যাচ শেষে সাবেক লিভারপুল সতীর্থ সালাহের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাবজোন্সপোর মিডফিল্ডার ফাবিনিয়ো বলেন, বড় ম্যাচের জন্যই বড় খেলোয়াড়দের প্রয়োজন হয়। ওর মতো তারকাদের কাছ থেকে সবাই এমন পারফরম্যান্সই প্রত্যাশা করে, আর সালাহ সব সময়ই সেটি করে দেখায়। দল হিসেবে আমরা তার উপস্থিতি উপভোগ করি। ওর প্রথম হ্যাটট্রিকে আমি ভীষণ আনন্দিত।

অন্যদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গালাতাসারাইয়ের পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে ওঠে। ৭২ মিনিটে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড দেখে ডাগআউট ছাড়তে হয় সফরকারী কোচ ওকান বুরুককে। এর কিছুক্ষণ পর ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার লেসলি উগোচুকু।

সব কটি গোলেই সরাসরি অবদান রাখা সালাহের এমন বিধ্বংসী জয়ে পয়েন্ট তালিকায় ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ট্রাবজোন্সপোর, যা শিরোপার লড়াইয়ে তাদের শক্ত অবস্থান জানান দিল। আন্তর্জাতিক বিরতির ঠিক আগে এই বড় জয় নতুন কোচ থমাস রাইস ও ট্রাবজোন্সপোর দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

খালি পায়ে শুরু, ৪৩ বছরেও চলছে নাজিমের ফুটবলযাত্রা

খালি পায়ে ক্ষ্যাপ খেলা থেকে হাজার গোলের গল্প, নিজের স্বপ্ন পূরণ না হলেও গড়ে তুলেছেন জাতীয় দলের ফুটবলার। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মনোহরা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের বয়স এখন ৪৩। এই বয়সে অনেকে ফুটবল থেকে দূরে থাকেন। কেউ হয়তো মাঠে আসেন দর্শক হয়ে। কিন্তু নাজিম এখনো নিয়মিত মাঠে নামেন। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেন, গোল করেন, সতীর্থদের নিয়ে অনুশীলন করেন।

ফুটবল তার কাছে শুধু একটি খেলা নয়। এটি তার জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী।

নাজিমের ফুটবলের শুরু অবশ্য বুট পরে নয়, খালি পায়ে। গ্রামের মাঠে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত ‘ক্ষ্যাপ’ খেলায় বড়দের সঙ্গে খেলতেন ছোট্ট নাজিম। ৫২ কিংবা ৫৬ ইঞ্চির মাঠে বয়সে বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটতেন।

দুই দলে ভাগ হওয়ার সময় ২২ জোড়া বুট থাকলে হয়তো তার জায়গা হতো না। কিন্তু খেলার সময় কাউকে বদলি করতে হলে নাজিমকে মাঠে নামানো হতো। কারণ, তাকে ছাড়া দল যেন পূর্ণ হতো না।

সেই খালি পায়ের ছেলেটিই একসময় গ্রামের মাঠ পেরিয়ে উল্লাপাড়ার মাঠে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। মনোহরা গ্রাম থেকে উল্লাপাড়া আকবর আলী কলেজের মাঠ প্রায় সাত-আট কিলোমিটার দূরে। ভোরেই সেখানে চলে যেতেন তিনি।

সেই মাঠে তখন সেনাবাহিনীর অনেক ভালো ফুটবলার অনুশীলন করতেন। লিটন ভাই, খোকনদা, রঞ্জুসহ বড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে করতেই ফুটবলকে জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলেন নাজিম।

১৯৯৯ সালে প্রথম বুট পায়ে ওঠে তার। দুই বছর পর, বয়স তখন ১২-১৩ বছর, সিরাজগঞ্জের প্রথম বিভাগের দল একক সংঘ ক্লাবে সুযোগ পান। খুব বেশি খেলার সুযোগ না পেলেও নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পান।

এরপর বিকেএসপির ট্রায়ালে অংশ নেন। সেখানে ভালো করেন এবং চূড়ান্তভাবে ভর্তি হওয়ার সুযোগও পান। কিন্তু পরিবারের দায়িত্বের কারণে সেই সুযোগ আর নেওয়া হয়নি।

পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় তখন অনেক দায়িত্ব ছিল নাজিমের ওপর। তাই বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নটা বাদ দিতে হয়। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন অবশ্য বাদ দেননি।

ঢাকার ফুটবলেও একসময় পা রাখেন নাজিম। পাইওনিয়ার ফুটবল থেকে তৃতীয় বিভাগ, ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন। তার খেলা নজরে আসে কোচ ও ফুটবল সংশ্লিষ্টদের। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও একই মাঠে খেলেছেন, লড়াই করেছেন।

জাতীয় দলের খুব কাছাকাছিও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দরজা তার জন্য খোলেনি।

এই না-পাওয়ার কষ্ট অবশ্য নাজিমকে ফুটবল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি। বরং নিজের যে স্বপ্ন পূরণ হয়নি, সেটাই অন্য একজনের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা হিসেবে নিয়েছেন।

নিজের স্বপ্ন অন্যের পায়ে

গ্রামের তরুণদের নিয়ে নাজিম নিয়মিত অনুশীলন করাতেন। কোনো বড় একাডেমি ছিল না। ছিল না বড় কোনো আর্থিক সুবিধাও। নিজের অভিজ্ঞতা আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ছেলেদের খেলাতেন।

সেখানেই তার নজরে আসে আব্দুল্লাহ পারভেজ।

নাজিম বলেন, ‘আব্দুল্লাহ দিনের পর দিন আমার পেছনে সময় দিত। বিকেল হলেই বলত, কাজ বাদ দেন, এখন খেলতে চলেন।’

ছেলেটির আগ্রহ দেখে নাজিম বুঝতে পারেন, তার মধ্যে সম্ভাবনা আছে। একসময় আব্দুল্লাহকে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে খেলার সুযোগ করে দেন।

ঢাকায় যাওয়ার সময় তাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ফিরে এসেছিলেন নাজিম। কিন্তু এরপর থেকেই চিন্তা শুরু হয়। এত বড় শহরে একা ছেলেটি কীভাবে থাকবে? কেমন খেলছে? ঠিকমতো খেতে পারছে কি না?

দূরে থেকেও যোগাযোগ রাখতেন। ঢাকার পরিচিতদের ফোন করে আব্দুল্লাহর খোঁজ নিতেন। তার খেলার খবর নিতেন নিয়মিত।

সেই আব্দুল্লাহ পারভেজই পরে তৃতীয় বিভাগ থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পান। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে এক মৌসুমে সাত গোল করে আলোচনায় আসেন। পরে জাতীয় দলের দরজাও খুলে যায় তার সামনে।

নাজিম নিজে জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। কিন্তু তার হাতে তৈরি একজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নের জায়গায় এটাকেই বড় অর্জন মনে করেন তিনি।

হাজার গোলের গল্প

মাঝমাঠে আক্রমণভাগে খেলেন নাজিম। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তার গোলের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। বয়স বাড়লেও মাঠে তার গতি, বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এখনো কমেনি।

৪৩ বছর বয়সেও ফিট থাকার রহস্য কী?

নাজিমের উত্তর খুব সাধারণ। নিয়মিত অনুশীলন, সময়মতো খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম।

দিনের কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ওঠেন। আবার মাঠে যান। ক্ষ্যাপ খেলা শেষ করেও নিয়ম মেনে বিশ্রাম নেন।

বছরের পর বছর একই রুটিন ধরে রেখেছেন তিনি।

তার কাছে ফুটবল কোনো বাড়তি কাজ নয়। বরং প্রতিদিনের জীবনেরই অংশ।

মাঠ বদলেছে, নাজিম বদলাননি

একসময় খালি পায়ে গ্রামের মাঠে খেলেছেন। পরে বুট পায়ে উঠেছে। ৫২-৫৬ ইঞ্চির ক্ষ্যাপ খেলা থেকে ঢাকার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল, অনেক পথ পেরিয়েছেন নাজিম।

সময় বদলেছে। ফুটবলের ধরন বদলেছে। মাঠের দর্শক বদলেছে। এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এসেছে নতুন প্রজন্মের ফুটবলার।

শুধু বদলায়নি নাজিমের ফুটবলপ্রেম।

৪৩ বছর বয়সেও তিনি মাঠে নামেন। এখনো গোল করেন। নতুনদের সঙ্গে খেলেন। তাদের শেখান। আর নিজের অপূর্ণ স্বপ্নের গল্পও হয়তো খুঁজে পান তাদের পায়ের ছন্দে।

একসময় যে ছেলেটির হাতে বুট ছিল না, সেই নাজিম আজও ফুটবল হাতে মাঠে ছুটছেন। তার নিজের স্বপ্ন হয়তো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। কিন্তু অন্যের স্বপ্ন পূরণে যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটাই এখন তার সবচেয়ে বড় জয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীদের ‘নবীনসংলাপ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘যমুনা’র উদ্যোগে নবীনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ভবনের ৪০০১ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

‘যমুনা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক পরিচয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। সিরাজগঞ্জের পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর নাম অনুসারে সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে।

সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবনে অভিযোজনে সহায়তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং নেটওয়ার্কিং উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ও পেশাগত বন্ধন আরও শক্তিশালী করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে জেলা প্রশাসনের র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পরে বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।