Homeবিশ্ববিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংকট, জাতিসংঘে বসছেন বিশ্বনেতারা

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংকট, জাতিসংঘে বসছেন বিশ্বনেতারা

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে এবারের অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নানা চাপের মুখে। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থায়ন কমানো ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে জাতিসংঘও চাপে রয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না। ২০২১ সালে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর এবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন। এতে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৮০ বছর বয়সী এই সংস্থার বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষে দিকে শেষ হচ্ছে। তবে তাকে প্রতিস্থাপনের দৌড়ে এখনো কোনও স্পষ্ট অগ্রগামী প্রার্থী নেই।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে পারে। আরব নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান বলেন, জাতিসংঘ এখন আর ‘মুক্তপতনে’ নেই, তবে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আটকে আছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার হারানো ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে নিয়মিত বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে ওয়াশিংটন। তবে সংস্থাটির কাছে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে এবং ব্যয় কমানো ও সংস্কারের দাবি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

এবারের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এআই খাতের কয়েকজন নেতা প্রযুক্তিটির উন্নয়ন সমন্বিতভাবে ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এআই খুব শিগগির নিজেই নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা অর্জন করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

গুতেরেসও এআই নিয়ে বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরির পক্ষে। তার মতে, প্রযুক্তিটির উন্নয়নে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর উচিত অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে গুতেরেসের সতর্কতার সঙ্গে একমত নন ট্রাম্প; তিনি এ ধরনের আশঙ্কাকে ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments